|
 |
|
| |
|
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
|
| |
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি । তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৭
বাংলাদেশের জন্য নয়, আইএমএফ তার নিজস্ব সংকট মোচনের জন্যই চুক্তি করতে আগ্রহী।
আজ জাতীয় প্রেসকাবে ইক্যুইটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ এর প থেকে "আইএমএফ এর সাথে সকল সম্পর্ক পূণঃবিবেচনা ও স্বচ্ছতা চাই" শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দল কাজ করছে, তারা ঢাকায় ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবেন। শোনা যাচ্ছে, তারা এর মধ্যে সরকারের সাথে পিএসআই (পলিসি সাপোর্ট ইনস্ট্রুমেন্ট বা নীতি সহায়তা হাতিয়ার) চুক্তি সমঝোতা চূড়ান্ত করবেন। আইএমএফের মতে যেসব দেশ সরাসরি আর্থিক সহায়তা নেবে না তাদের জন্য এই পিএসআই। পিএসআই-এর মাধ্যমে তারা সরকারকে মুদ্রা রিজার্ভ, আয় বিনিময়, বৈদেশিক মুদ্রার হার বিনিময়, অর্থনীতি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেবে ও পর্যবেক্ষন করে যাবে। আইএমএফের মতে এর ফলে চুক্তিভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের বিশেষ করে বিভিন্ন দ্বিপাকি ও বহুপাকি ঋণ বিনিয়োগ ও অন্যান্য সহায়তা যথাযথ কাজে লাগানোর মতা বাড়বে।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন যে, ইতিমধ্যে পৃথিবীর অনেকদেশে আইএমএফ এর বিভিন্ন নীতির কারণে অর্থনৈতিক সংকট তৈরী হয়েছে। যেমন, মেক্সিকো ৯০-৯৫, দণি-পূর্ব এশিয়া ও দণি কোরিয়া ৯৭-৯৮, ইকুয়েডার ৯৮-৯৯ এবং আর্জেন্টিনা ২০০১ তে অর্থব্যবস্থায় সংকটে পড়ে (উদাহরণস্বরূপ, মাত্রাতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতি, ভয়াবহ রকমের পুঁজিপাচার, জনসেবা খাত ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থসংকট হঠাৎ রপ্তানী বাজার পড়ে যাওয়া) এসবের জন্য তারা আইএমএফের উপদেশ ও শর্তাবলীকেই দায়ী করে।
বক্তারা উপস্থাপন করেন যে, ১৯৭৫-এর পর থেকে এই প্রথম আইএমএফের আয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০০৫-০৬ সালে মাত্র ১৩-১৪টি ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া ছিল। তৃতীয় বৃহত্তম ঋণগ্রহীতা পাকিস্তান, ৪র্থ বৃহত্তম ঋণ গ্রহীতা ইউক্রেন, সার্বিয়া, অজারবাইজান, তারা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর ঋণ নেবে না। উপরের ঐ স্বল্পোন্নত দেশগুলো ছাড়াও মধ্যবর্তী আয়ের নিম্নোক্ত দেশসমূহ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যে, তারা সময়ের আগেই ঋণ শোধ করে দেবে, যেমন থাইল্যান্ড, ফিলিপিন, রাশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেনটিনা, ইন্দোনেশিয়া, তুর্কি ও উরুগুয়ে। এ বাজেট ঘাটতি মোকাবেলার জন্য পরামর্শ দিতে ২০০৭ জানুয়ারিতে একটি কমিটি করা হয়। তারা প্রস্তাব করে যে, ইতিমধ্যে জমা রাখা ৩২০০ টন রিজার্ভ সোনার মধ্যে ৪০০ টন যাতে বিক্রয় করে দেয়া হয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতায় তা আর হয়নি।
বক্তারা ব্যাখ্যা করেন যে, আইএমএফএর বর্তমান পরিচালক রডরিগো ডি রাতো ২০০৯ সাল পর্যন্ত থাকার কথা, দুই বছর পূর্বে তার পদত্যাগের মূল কারণ হলো তার আইএমএফকে পূনর্গঠন সংক্রান্ত সমস্থ কৌশল সমূহ ব্যর্থ হয়েছে। এমতাবস্থায় মাত্র ৩টি দেশ নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও কেপ ভার্দে এই চুক্তিতে স্বার করেছে। ইতিমধ্যে যদি বাংলাদেশ এই চুক্তিতে স্বার করে তাহলে তারা পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে উদাহরন স্বরুপ দেখাতে পারবে, বলবে তোমরাও স্বার করো। এজন্য চুক্তিটি দ্রুত স্বার করানোর জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করে বলেন যে, উপরোক্ত সংকট সমূহের কারণে আইএমএফ তাদের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব প্রমাণ করার জন্য আইএমএফ পিএসআই নিয়ে নেমেছে। বক্তারা বাংলাদেশে আইএমএফের শর্ত গুলিকে পিআরএসপি পিরিয়ডে দারিদ্রতা বৃদ্ধির হার এবং বৈদেশিক দেনা বৃদ্ধির হার যা জাতীয় বাজেটের ২০%, এবং দেশীয় শিল্প ধবংস হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ইকু্যয়িটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ এর প থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী, স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব আমিনুর রসুল বাবুল, এএইচএম বজলুর রহমান, সভায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাহাদত ইসলাম চৌধুরী ও মোস্তফা কামাল আকন্দ।
ইতি-
বার্তা প্রেরকঃ
আমিনুর রসুল বাবুল। (মোবাইল: ০১৭১১৫৮৩৯৫৮)
সংবাদ সম্মেলনে পঠিত লিখিত বক্তব্য ও ছবি www.equitybd.org পাওয়া যাবে।
সচিবালয়: বাড়ি ৯/৪, সড়ক ২. শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭। ফোন : ৮১২৫১৮১, ৮১৫৪৬৭৩
|
| |
|
|
| |
|
|
| |
|